অচল
ঝাউ মেহগনির ডাল ভেঙ্গে পড়ছে
ভাদ্র দুপুরের ঝাঝালো রোদ।
এক টুকরো বাতাস নেই গাছের পাতায়
আকাশে নেই এক তুলো কালো মেঘও।
তবুও ঘুম ভাঙ্গে না জমির মিয়ার।
জমির মিয়া ঘুমানোর মানুষ না।
ছনের বেড়া গলে ভোরের আলো ঢোকার
অনেক আগেই বিছানা ছাড়ে সে।
হয়তো দেখা যায় মাছ ধরার কোচ হাতে
ঝাপিয়ে পড়ছে বিলের মাঝখানে।
অথবা হুরর.. হাট.. হাট.. বলে
জোয়াল জুরে দিচ্ছে গরুর গলায়।
সূর্য উঠার আগেই আধ বিঘা জমিন
চষে শেষ করে সে। ফজরের পর
তার মাথার সাদা টুপিতেই চমকে
সূর্যের প্রথম রশ্মি।
আজ জমির মিয়ার ঘুম ভাঙ্গলেও
বিছানা ছাড়ে না সে।
শুধু পাশ পাল্টিয়ে প্রস্তুতি নেয়
আরেকটা লম্বা ঘুমের।
সেলো-ইঞ্জিনের ট্রাক্টরের দখলে
এখন গরুর গোয়ালঘর।
বিলে কলা গাছের ভেলা ভাসলেও
তার নিচে নেই কোন শোল মাছের বাইশ।
যে জমির মিয়া যোহরের আগেই
কাটত দুই কাঠা জমির ধান,
তার সকাল দুপুর এখন ঘুমেই কাটে।