সোয়াই
পিঠে ঘাস বুকে আকাশ ঠেকিয়ে, সমস্ত ইন্দ্রিয় দিয়ে
আমার আজন্ম তৃষ্ণা মেটাচ্ছি শান্ত এক সন্ধ্যায়।
দূরে কোথাও তটস্ত এক কিশোর রাখাল
ঘাস কাটতে গিয়ে হাতের আঙ্গুল কেটে ফেলে;
আলোর অভাবে। লম্বা ঘন ঘাস ভেদ করে
সাই সাই শব্দে চলছে তার বিরামহীন কাস্তে।
ধীর পায়ে মসজিদে ফিরছেন এক মুয়াজ্জিন।
কপালের ভাজে আগামী কালের ঘরের বাজার।
ভারী ব্যাগ কাধে গঞ্জ থেকে সাকো বেয়ে ফিরছেন
বেপারীসাব। মন্দ বাতাসে আসছে তার পায়ের ধুপধাপ।
মাথার পাশ দিয়ে দুইটা যুবক চলে গেলো দ্রুতপায়ে
চাকরির হতাশায় সরকারের গোষ্ঠী উদ্ধার করতে করতে।
নদীর কালো জলের কাধে ভাসছে কচুরিপানার কার্পেট,
তার উপড় চেপে হাওয়ায় খাচ্ছে দুইটা বেগুনি ফুল।
বলে যাচ্ছে জৈষ্ঠ্যমাসের আর বাকি রইলো কদিন।
ডান দিগন্তের আকাশটা ঠিক কমলা রঙের,
মাঝখানে তা নীল, বামে তা নীলচে থেকে ধুসর হচ্ছে।
নাকের ডগায় উড়ে বসলো একটা ফড়িং,
ঠিক যেন একটা হেলিপক্টার ভো ভো করছে।
বাম দিগন্তের গোলগাল চাঁদ এলার্ম ক্লকের মতো
মনে করিয়ে দিচ্ছে দিনের শেষ, ছুটির সমাপ্তি।
কাল সকালেই তো আবার ফিরবো দালানের জঙ্গলে।
আবার কাগজে যুদ্ধ করে উদ্ধার করব বিশ্ব।
কিন্তু সেখানে আর কোথায় এমন নির্জন সন্ধ্যা।
সেখানে আর কোথায় আমার প্রিয় নদী; সোয়াই।