শৈশব
মনে পড়ে সেই দিন গুলো,
ঘুড়ির সুতোয় নাটাই বেধে
আকাশ উড়ানোর বিকেলগুলো।
আল ডিঙ্গিয়ে ঘাস ফড়িংয়ের সাথে
ক্ষেত চড়ানো সময়গুলো।
মগজে চর জাগে পুরনো সে ঝিম দুপুরের,
এক ডুবে পেরিয়ে যাওয়া তাল পুকুরের।
আকাশ জলে ভেসে যাওয়া মাঠ,
কেয়ার ফুলে বউ সাজা খেয়ার ঘাট,
যত্ন করে বাক্সে ভরে মনে মনে পুষি সব।
যান্ত্রিক মন ভরে দিয়ে যায় স্মৃতিদের কলরব।
লাঙ্গল হয়ে মনে আজও আছড় কাটে,
খালি পায়ে বুকে নতুন করে হাটে,
সেইসব ফুল চুরি করা ভোর।
কুয়াশা চাদরে মাফলার গলায়,
আধা বন্ধ আধা খোলা সে দোর;
মা জাগবে সেই ভয়ে নিরবে শিশির ভাঙ্গি।
ভাট ফুল আর সেগুন পাতায় বইয়ের পৃষ্ঠা রাঙ্গি,
যে দিন কেটেছে, পেরিয়ে গিয়েছে,
আসবে না ফিরে আর।
নাটাই ভেঙ্গেছে, ফড়িং উড়েছে,
কংক্রিট ব্রীজে হারিয়ে গিয়েছে
খেয়াদের পারাপার।
সবই আছে আজ তাও যেন নেই কিছু,
ঘুমের দুপুরে, চাঁদের আধারে,
ছুটি অজানার পিছু।
ইচ্ছে, সময়, বস্তা ভরা। কাড়ি কাড়ি আছে সব।
শুধু, ভাট ফুলে শুকানো শিশিরের মতো
হারিয়েছি শৈশব।