কুড়েঘর ঠায় দাঁড়িয়ে
কুড়েঘর ঠায় দাঁড়িয়ে।
বাম পাশে তার নিয়ম করে নিত্য চলে ট্রেন।
পলকের গতিতে হাজার মোটর
পাড়ি দেয় তাকে ডান পাশ দিয়ে প্রতিদিন।
পেছনের ক্ষেতে বৃষ্টির জমা পানিতে
ফোটে একটা সাদা শাপলা
ও কিছু নাম জানা বুনোফুল।
সামনের উঠোনে ব্যাঙ্গের ঘ্যাঙর ডাকে
মালা গাথে একটা মরা বকুল গাছ।
কুড়েঘর ঠায় দাঁড়িয়ে মাঝখানে।
বায়ে তার অতীতের লম্বা রেললাইন।
তিনটা ট্রেনে, জীবন ফেরে দিনে তিনবার।
হরেক মোটর গাড়ির বিচিত্র রঙে
ব্যস্ত ডানের মহাসড়ক।
গাড়ির কর্কশ হর্নে উড়ে যায়
কড়ই গাছে বসে থাকা নিঃসঙ্গ কাক।
আন্তনগর ট্রেনের বাতাসে দোলে
নিশ্চিহ্ন প্রায় কবরের দূর্বাঘাস।
অতীত আর বর্তমানের মাঝখানে
তাও ঠায় দাঁড়িয়ে কুড়েঘর।
নুইয়ে পড়া মাথায়, জীর্ন ধানগাছের ছাউনিতে,
ভেঙ্গে পড়া মাটির দালানে ভর দিয়ে,
পাহারা দেয় মালিকের কবর।