একদিন কাকতাড়ুয়া হবো
অসীম সবুজের সাগর চিড়ে চলেছি আমি।
কৈশরের মতো সবুজ নতুন গজানো সব কলাপাতা
বাতাসে দুলেদুলে উদযাপন করছে নতুন প্রেম,
অন্য পাতার দল ছাড়িয়ে উচু মাথায় উকি দিয়ে
জানিয়ে যাচ্ছে যৌবনের আগমন।
মায়ের হাতের মতো কোমল সবুজ দুর্বাঘাসের কার্পেট।
মায়ের ঘুম পাড়ানি গানের মতো মায়াবী আর প্রশান্তির।
সাদাপাকা চুলে মায়ের বুলানো হাত যেমন
মুছে দেয়া আমার সব ক্লেশ, ক্লান্তি, আর হতাশা।
এখানকার কচুরিপানা ঘন কুচকুচে সবুজ।
দেড় গজ কিউবিকালে দিনের পর দিন পার করা
সকল কর্পোরেট যুবকের বুকে পালতে থাকা
একটা লম্বা ছুটির আশার মতো গাঢ়।
ফসলের মাঠের ঐপাড়ে দিগন্তরেখা মোহনীয় সবুজ
বার্ধক্যে বাবার হাসির মতো, তার সাদা পাঞ্জাবীতে
ধূসর সুতোর কারুকাজের মতো।
চারপাশের গাছের দেয়ালের সবুজ মিলায় গিয়ে
অন্তহিন গাঢ় নীল আকাশে।
সহস্র জীবনেও ফিরে আসবো এই সবুজে,
ঘাসফড়িংয়ের মতো ভেসে বেড়াবো ঘাসে,
কচুরি ফুলের মতো দুলবো সোয়াই নদীর বাতাসে।
আমি একদিন কাকতাড়ুয়া হবো এই ফসলের মাঠে।