সাক্ষাৎ
চোখ বন্ধ করতেই, বাতিটা নেভাতেই,
আয়না ভেঙ্গে বেরিয়ে আসে আমি।
আসলে আমি না, আসল আমি।
সভ্যতার মন্ত্র পড়ে, ভদ্রলোকের দেয়ালে,
যাকে আমি আটকে রাখি সারাদিন।
যার ভয়ে আমি ধরে দেখিনা কোন ফুল,
যার ডরে ছুয়ে দেখি না সাদা খামটা।
যার আফসোসে শুধুই অফিসে পড়ে থাকা
উৎকোচের সেই ফুলের তোড়া।
ঘুমের দরজা খুললেই দাত মুখ খিচিয়ে
নিত্য সে ব্যঙ্গ করে আমাকে।
আমার রংচটা সাদা শার্ট আর
কুচকানো নীল টাইয়ের উপড় হাসে
তিরষ্কারের হাসি। আমায় লোভ দেখায়
একটা তেলতেলে কালো স্যুটের।
আমি তাকে বেধে রাখি
আমার অনাগত সন্তানের হাসিতে।
তাকে আমি ভয় দেখাই অসম্ভব এক বিপ্লবের।
ছাত্র আন্দোলনের একটা মিছিল দেখিয়ে
করি নিষ্প্রভ।
কিন্তু তাকে চেতিয়ে দেয়
আমার গ্রীষ্মকালের লোকাল বাসের একটি যাত্রা।
তার বুকের সাহস বাড়ায়,
আমার এসির বাতাসে ঘুমানোর শখের অসুখ।
আমার ভয় সেদিনের,
যেদিন আমার ভয় কেটে যাবে।
যেদিন আমি জেনে যাবো যে
কীভাবে স্বৈরশাসকের আগে মরে যায় বিপ্লব।
যেদিন আমি দেখা পাব আসল আমার।