জ্বরের প্রলাপ
বাশের চেয়ে শক্ত বেশি ইচড়ে পাকা কঞ্চি
ভুরুর উপড় উতলে উঠছে কপাল আড়াই ইঞ্চি।
লালচে চোখে টলমলিয়ে ঘুম দিয়ে যায় হাই
গ্রীষ্ম মাসে ফ্যানের নিচে কাথা কোথায় পাই?
খোলা কানে শুনছি শুয়ে খিদেয় শিশুর কান্না
খালি পেটে ঘুমের রাজা বস্তি ঘরেও যাননা।
বন্ধ নাকেও শুকছি ফ্রীজে বিরিয়ানির গন্ধ
পেটের ব্যামোয়, দুধের সাথে ঐটা খাওয়াও বন্ধ।
উত্তর দক্ষিন হাত ছড়িয়ে পশ্চিমে দিই মাথা
শিমুল তুলার জাজিম পিঠে লাগছে বড় যা-তা।
পিচ বিছানায় কুকুর ঘুমায়, তারই পাশে এক
পাগল ঘুমায় মাথায় দিয়ে হাতের বালিশ ঠেক।
ডাক্তার বলে হাটতে রোজই মাইল আড়াই-তিন
ভুড়ির সাথে বয়স বাড়ে, বসেই কাটে দিন।
সাত তলাতে শুয়ে সুখে ঘুমের করি খোজ,
রাত দুপুরেও রিকশা চালায় জমির মিয়া রোজ।
তার ঘুমেতে হার মেনে যায় দুপুর বেলার রোদ
চেষ্টা শেষে সুর্য মামাও ঘুমাতে যান খোদ।
গ্যারেজের এক ছাদের কোনে পোটলা মাথায় দিয়া
সকাল থেকে দিন আড়াইটা ঘুমায় জমির মিয়া।
গায়ের তাপে সেলসিয়াসও পেরুলো চল্লিশ
জ্বরের ঘোরে মনুষ্যত্বও হঠাৎ দেয় যে শিষ।
অপরাধবোধ? নাকি দ্বিধা? ওহু আমার পেটের খিদা।
মুরগি রান হাতে ধরে সাধছেন আমার প্রিয় দিদা।
পেটটা ভরলে, জ্বরটা কমলে, চিন্তা করা যেতো সোজা,
এবার তবে সুস্থ হলে, না খেয়ে থাকবো রোজা।