চক্র
বালির দেহ ক্ষয়ে যায় সাদা কাকের ঠোকরে।
মাথায় বসে সেটা খায় এম্পেরের রয়াল মগজ।
নীল জলের সাদা ফেনায়
জেগে ওঠে ভেজা বালির রাজপ্রাসাদ,
শিশুর আঙ্গুলের ছোয়াতে আসে চোখ-নাক,
খরতাপে তা পুড়ে হয়ে যায় পেরিক্লেস।
সাদা মার্বেলের সূর্যাস্তে ডুবে ক্রেসিলাস
সাথে নিয়ে যায় সাত মিলিয়ন গ্রীক।
স্থবির বালির সাগরে ডুবন্ত
দশরথের পাথর মুর্তি চিরে জন্মায়
একশো বিশটি নীল রঙের পদ্ম।
যাদের মালা গেথে গলায় পড়ে
দুই হাতে নিজের চোখ তুলে নিয়ে
সিন্ধু পারে ভিক্ষা করে রাজা পুরোহিত।
রুপার বাটি থেকে তার উপচে পড়ে
চিক চিক করা সোনালী বালি।
সেই বালিতেই খুর উড়িয়ে, চোখ ধাধিয়ে,
ছুটে যায় আব্বাসীদের ঘোড়া।
আরব আর ভারত সাগর মিশিয়ে দিয়ে
শাণ-প্রতাপ ছড়াতো যে সাম্রাজ্য
তার ঘুনে খাওয়া সিংহাসনে বসে
কা কা করে বিনাশের সাদা কাক।
সময়ের স্রোতে ধরনীর ঘুর্ননে
চাদের পাহারা পেরিয়ে ওঠে আসে
সভ্যতার আরেক সূর্য। দম্ভে করে গনগন।