ঋণ
গলুই চিড়ে বইছে ঢেউ, চার দিগন্তে নাই যে কেউ।
খালাসী এক গুনছে দিন, বধূর কাছে ফেরার ঋণ।
ছেলের কাছে আকাশ ঋণ, মেয়ের চাওয়া ফুলবাগান।
মায়ের কাছে নকশি কাথা, বাবার পাওনা হুকার-টান।
ঠোসা হাতে কয়লা ঠুসে ইঞ্জিনখানা সচল রয়,
সাদা ভাত আর নোনা মাছে দিন কাটে রাত পার হয়।
সবুজ দ্বীপ পেছনে ফেলে সামনে আগায় হালের জল,
মুম্বাই, লঙ্কা, কায়রো হয়ে হাজার মাইল অনর্গল,
সব পেরিয়ে, জল ছাড়িয়ে তীরের আশায় চোখ অনড়।
মায়ার মুখ, চেনা রাস্তা, ভাবতেই দেয় বুক মোচড়।
ঘামের সাথে পাল্লা দিয়ে মাথায় চড়ে সুদের হার
কতটুকুই মাইনে তার? আধ নিয়ে যায় পাওনাদার।
বাকি আধা বুকে গুজে, ভাবে খালাসি, চক্ষু লাল,
মায়ের কাথা? মেয়ের জুতা? রান্নার ডাল? ভাঙ্গা চাল?
এইসবের কোনটা বিলাস? কোনটা আগে, কোনটা পরে?
সিদ্ধান্তে মগজ ঝুলে, সাগর জলে নয়ন ভরে।
ধোয়া উড়িয়ে এগোয় জাহাজ, দেশ পেরিয়ে বন্দরে,
খালসী এক গুনছে দিন, উত্তাল সাগর অন্তরে।