প্রিয়তমা
হ্যালির ধুমকেতু আর
এপোলো ইলেভেনের উপস্থিতি যখন
গিলে খেলো মহাশুন্যের কৃষ্ণতা,
হুতুম পেচার নিস্তব্ধতায় যখন
ছেয়ে গেলো অলকার আকাশগঙ্গা।
বা লাইট হাউসের ঘুর্নমান রশ্মিতেও যখন
কালো জলে বিলীন হলো বন্দরের
সবচেয়ে বড় জাহাজ ও তার নাবিকদল,
আমি তখন জেগে ছিলাম।
গুনেছি আমার সিলিং ফ্যানের আরপিএম,
পরখ করেছি তোষকের তুলার মান।
আব্বাসীয়দের ঘোড়ার খুড়ে উড়ে আসা
সেই মধ্য রাত আথবা
মারাঠি ডাকতদলের লুটে নেওয়া
স্বর্নের ঝনঝনানিতে মুখর কোন ভোরে,
কখনোই আমার দু চোখের চার পাতা
পায়নি একে অন্যের আলিঙ্গন।
শুধু জানালার পর্দা গলে দেখেছি নিয়ন বাতি,
ছুটে যেতে শুনেছি মুমূর্ষ এম্বুলেন্স।
হয়তো আমায় ঘুম চুরি করেছে
সিন্ধাবাদের কোন এক দৈত্য।
কিংবা ময়লা স্তুপের পাশে ক্রন্দনরত
কোন ক্ষুদার্থ পথশিশু তার প্রাপ্য হিসেবে
দখল করেছে আমার মস্তিষ্ক।
কিন্তু সত্য হলো আমি জেগে না থাকলেও
কখনো ঘুমাইনি।
মনে মনে হেটেছি আমার গ্রামে,
কল্পনায় বসে থেকেছি সেই সোয়াই নদীর পাড়ে।
চোখের নিচের গাঢ় কালো দাগ সাক্ষী।
কতটি রাত কেটেছে আমার নির্ঘুম।
তবে জানিনা ঠিক কার দোষে,
সিন্ধাবাদের দৈত্যের? মারাঠি ডাকাতদলের?
নাকি তোমার?