Skip to content
← All poems

যদুবা

আষাড়ের এক সন্ধ্যায় চাদের গাড়িতে চেপে আমি পৌছেছিলাম ছিমছাম থানচিতে। স্প্রিং এর মতো পেচানো রাস্তা বেয়ে এক ঝোলা মেঘ কাধে, নেমেছিলাম সাংগুর পাড়ে। সাংগুর ঠিক উল্টোপাশেই দাঁড়িয়ে যদুবা। অন্যসব পাহাড়ের মতো নেই তার উচ্চতার জৌলুস। তার চামড়া ছিলে পেচিয়ে উঠেনি পিচের অজগর। কিন্তু নীল সবুজে সে পিছিয়ে নেই এক রত্তিও। সন্ধ্যায় তার অশ্বথ-মেহগনির ঘন বনকে যুবতীর এলো চুল ভেবে ভুল করেছে কতজন। তার সরু নুড়ির পথ পায়ে মাড়িয়ে কত শহুরে ক্লান্তি ভেসে গেছে ঝিড়ির জলে। কিন্তু তারে মনে রেখেছে কজন? আমি রেখেছি। যদুবার পরেও চড়েছি কত উচু পাহাড়, ছুয়ে দেখেছি রাজকীয় সব ঝর্নার জল। কিন্তু যদুবার সেই দেড় বিঘত ঝিড়ির স্বচ্চ জল, তার মাঝ উচ্ছতায় সেই দুইটা বাশের জুম ঘর, শিমুল ডালে বসে ঝিঝি পোকার ডাক, আর জোনাকির ভীরে কাটানো সেই একটা রাত; এসবের ধারে কাছেও আসতে পারেনি কিছু। কোন এক কবি পাহাড় কিনতে চেয়েছিলেন। আমার এত সাধ্য নেই, আমি ভাড়াটিয়া হতেও রাজি। হয়তো কোন এক সন্ধ্যায় কুপির আলোতে, চিঠির খামে আমার ঠিকানা লিখবো, যদুবা পাহাড়, থানচি, বান্দরবান। আমি এতেই খুশি।

2026