ধ্রুবতা
যে সোয়াই নদীর কুসুম-ঠান্ডা জলের নিচে
উকি দিতে প্রস্তুত হচ্ছে শ-খানেক বালুর চর।
আশ্বিনের দমকা হাওয়াতে তার পাড়েই
বৃন্তছাড়া হয় একটা সাদা নয়নতারা।
মাঝখানের হলুদ বৃত্তটা তার জানান দেয়
কোমল ভোরের আগাম বার্তা।
রোদের ঝলকানিতে চমকে উঠা
শিশির ভেজা বালিতে সে ছড়িয়ে যায়
এক অদ্ভুত সরল মুগ্ধতা।
স্কুলে যাবার পথে অজান্তেই তাকে
আধা দলে যায় শিশুর দল।
পাচ পাপড়ির দুটো চাপা পড়ে থাকে
বালির নীচে। বুলবুলির ঠোটে চেপে
তবু সে পাড়ি দেয় ছয়টা মাইল।
পাড়ি জমায় এক পরিত্যক্ত বাড়ির
স্যাতস্যাতে উঠোনে।
যেখানে আগে থেকেই আস্তানা গেড়ে আছে
এক গুচ্ছ রঙ্গিন কাচের ভাঙ্গা টুকরা,
দুই জোড়া টুনটুনি এবং একটা কুনোব্যাঙ।
সাথে আছে গাছের শাখার মতো
ছড়িয়ে পড়া অসংখ্য দেয়ালের ফাটল।
কার্তিকে যে অল্প সল্প বৃষ্টি হয়
তার জোরেই ফুল ফেটে বীজ ফুড়ে
জেগে উঠে আরেকটা নতুন গাছ।
ধীরে ধীরে তার শেকড়গুলো
আকড়ে ধরবে সেই কাচের টুকরো গুলোকে।
ধীরে ধীরে তার শেকড়গুলো গেথে যাবে
বাড়ির দেয়ালের ফাটলগুলোতে।
টুনটুনিগুলো আর কুনোব্যাঙ্গটার মতো একদিন
সেও হয়ে উঠবে এই বাড়ির স্থায়ী বাসিন্দা।