বিদায়
বালির কণা চমকে উঠে তাইগ্রিসের জলে।
খেজুর বাগান ডুবে যায় মরিচিকার তলে।
পথিক হারায় উটের পিটে দিকের বিহব্বলে।
মরু টিলায় ঠায় তরুনীর অশ্রু নামে গালে,
মিশরি এক ফিরছে দেশে বালির সাগর ঠেলে।
শুক গাযালে তার সাথে সেই যে প্রথম কথা।
সবুজ খেল্লা, সাদা পাগড়ি, ঝাকড়া-চুলো মাথা।
তীক্ষ্ণ চোখে ভাসে যেন প্রাচীন কোন ব্যাথা।
মুখে যেন খই ফোটে, তার দাতে মানিক গাথা।
ফাটা ঠোটেও হাসি যে তার হৃদয়-পরাণ মাতা।
চোখে চোখে কখন কোথায় হৃদয় বিনিময়,
স্থান ও কালের মাত্রাতে তা বন্দনীয় নয়।
বালির ডেউয়ে সময় কাটে ঘনিয়ে প্রনয়।
একে অন্যে মগ্ন যেমন শালিক যুগল হয়।
হাজার কথা তাও যেন সাধ অপূর্ণই রয়।
বাজার ফুরায় সওদা থামে, ঘরে ফেরে পাখি।
ডাবিকির গাট্টি ফুরায়, কাফেলা যায় ডাকি।
সম্ভাব্য বিচ্ছেদে তাইতো আর্দ্র যুগল আখি।
যাবে যদি কি লাভ বল মিছে আশা রাখি।
রোদ শুষে নেয় ঘন মেঘে যেইটা ছিলো বাকি।
উড়ো বালি পা ঢাকলো, অশ্রু শুকালো গালে।
রেশম চুলে ঢাকলো মুখ, সূর্য কোনায় ঢলে।
উটের ছায়াও ডুবে গেলো অসীম বালির জলে।
তরুণী তাও দাড়ায়ে একা, তারারা সদলবলে।
আর কি ফিরবে মিশরের সেই সওদাগরের দলে?