Skip to content
← All poems

ভাই

খাইরুল, জহিরুল, আর বাবুল উদ্দীন, গান গায়, ধান দায়, সুখে যায় রাত দিন। কাজ শেষে মিলেমিশে তারা খায় দুধ চা, তিনজনে তিন টান, কাপ কিন্তু এক টা। সারা গায়ে মুখে মুখে রয় তারা তিন ভাই, কখনো একজনে একা কেউ দেখে নাই। নায়, খায়, ঘুম যায় একসাথে তিনজন, গলাগলি করে কাটে, সাল, মাস, দিন-ক্ষন। লোকে কয় এত মিল আহ কি সুন্দর! হিংসেও করে কেউ, বলে তিন বান্দর। বাপ মায় বড় খুশি, দোয়া দেয় ভর-প্রাণ, বলে বাচো শ-সাল আমাদের তিন চান। বাবুলেরে ডেকে বলে মনু মিয়া ঘট্টক, একা আর কয়দিন এবার তো হাল হোক। মেয়ে আছে রুপসী, আমতলী গ্রাম তার। ম্যাট্রিক পাশ মেয়ে, বাপ হলো মেম্বার। বাবুল বড় তিনজনে, বয়সটা ছাব্বিশ। শুনে মুখ লাল হয়, লজ্জায় ইস-ইস!! খাইরুল, জহিরুল, শুনে খুশি বাপ মাও। বলে দেখ যাই কর, যদি ভালো মেয়ে পাও। মাঘ মাসে শীত শেষে বিয়ে হলো ধুমধাম, সারা গাও গরু খেয়ে করে গেলো খুব নাম। বারাতের আগে নেচে ঠ্যাং ভাঙ্গে খাইরুল, গেটে গিয়ে ঝগড়া বাধাইলো জহিরুল। সব কাজ শেষে আজ, নববধু ঘর পেল, দিন শেষে বাবুলও সংসারে মন দিলো। আজ বিজি, আবারো কাজ আছে কালকে, পরশু তো নয়া বউ যাবে তার মাইকে। এমনিই দিন যায়, শীত শেষে বৈশাখ, কা কা ডেকে যায় একা গাছে দারকাক। কাজ টাজ শেষ হয়, হয়না খাওয়া চা। দুজনায় বসে চায় বাবুলের রাস্তা। জনে জনে কানাকানি ভাঙলো কি বন্ধন? খাইরুল চোখ মুছে আসলো কি কান্দন? সান্তনা দেয় বসে কাধে হাত জহিরুলে, ভাবিস না আমি আছি, হাস দেখি সব ভুলে। চষা ক্ষেতে চাদনী, ভাঙ্গা ভেলা ভাসে না। লাউ ফুল ঝরে যায়, খাইরুল হাসে না। গ্রীষ্ম পার হয়ে আষাঢ়ের দিন এলো, কলের এক চাকরিতে জহিরুলও চলে গেলো। শিল পড়ে ধান ভাঙ্গে, কুজো হয় জবা ফুল, কাজ শেষে কাপ হাতে একা বসে খাইরুল। বাবুলটা ঘরজামাই, জহিরুল দূরে খুব, পদ্মের ভাসা জলে মন চায় দিতে ডুব। বাপ মায়েরা নিজ ঘরে শুনে ডাক বৃষ্টির, ধুধু মাঠ ভেসে যায় দিগন্ত দৃষ্টির। এরকমই হয় শেষে, কানাঘুষা লোকে কয়: ভাই ভাই যত বল, বন্ধু কি ভাই হয়?

2026